19-Wed-Dec-2018 02:32pm

Position  1
notNot Done

মার্টিন লুথার কিং-এর ‘আই হ্যাভ আ ড্রিম’

zakir

2018-01-15 23:50:47

দ্য পলিটিক্স ডেস্ক:  নিগ্রোদের অধিকার আদায়ে আপসহীন লড়াই চালিয়ে গেছেন আফ্রিকান-মার্কিন মানবাধিকারকর্মী মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র। আমেরিকায় মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় অহিংস আন্দোলনের জন্য ১৯৬৪ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান। তার বিখ্যাত ভাষণ  ‘আই হ্যাভ আ ড্রিম’।
‘আজ আমি আপনাদের সাথে এমন এক সমাবেশে মিলিত হতে পেরে অনেক খুশি হয়েছি। যা মুক্তিকামী মানুষের বৃহত্তম জমায়েত বলা যেতে পারে। এক শ বছর পার হয়ে গেছে। কিন্তু কালোরা আজও মুক্তি পেল না। বৈষম্য এবং বিচ্ছিন্নকরণের চক্রে পড়ে নিগ্রোদের জনজীবন আজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এক শ বছর পার হলেও আমেরিকার উন্নয়নে নিগ্রোরা আজও অথৈ মহাসাগরের মাঝে ক্ষুধার দ্বীপে বসবাস করে যাচ্ছে। তাই আমরা এখানে লজ্জাজনক পরিস্থিতির একটি নাটক মঞ্চায়ন করতে সমবেত হয়েছি।
বিলাসিতার সময় এখন নয়। গণতন্ত্রের দাবি বাস্তবায়নের সময় এখন। এখনই সময় পতিত বিস্তীর্ণ দ্বীপ থেকে বেরিয়ে আসার। অন্ধকার ভেদ করে আলোর দিশারি হওয়ার মোক্ষম সময় এটি। আমরা কেউ একাকী চলতে পারব না। আমাদের সব সময় একতাবদ্ধ হয়ে থাকতে হবে। অনেকেই আমাদের জিজ্ঞেস করেছে যে আমরা কখন বাড়ি ফিরে যাব। আমরা নিশ্চুপ থাকি কী করে? যখন দেখি দীর্ঘ পথ অতিক্রমের পর এ শহরের হোটেল এবং মোটেলগুলোতে আমাদের জন্য জায়গা হয় না। তখন আমাদের ব্যক্তিত্ব ধুলোয় মিশে যায় যখন দেখি হোটেল এবং মোটেলের দেয়ালে ‘শুধুমাত্র শ্বেতাঙ্গদের জন্য’। আমরা কীভাবে সহ্য করি যেখানে মিসিসিপির নিগ্রোদের ভোটের অধিকার নেই। এভাবে ছোট ছোট লাঞ্ছনা থেকে বড় বড় লাঞ্ছনার দিকে আমাদের ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। না না আমরা খুশি নই। আমরা খুশি হতে পারি না।
সমাবেশে সমবেত অনেকেই বিভিন্ন বিচারের ট্রায়াল এবং ট্রিবুলা থেকে এসেছেন। কেউবা হয়তো সদ্য জেল থেকে ছাড়া পেয়ে এসেছেন। কিন্তু সবার লক্ষ্য কিন্তু এক। সবাই এখানে আজ স্বাধীনতা এবং পুলিশি বর্বরতার বিরুদ্ধে কথা বলতে এসেছে। আপনারা হলেন সৃষ্টিশীল দুর্দিনের বীর সেনানী। আপনারা কাজ চালিয়ে যাবেন এই বিশ্বাসের সাথে যে এ অনাকাঙ্ক্ষিত কষ্টই আপনাদের মুক্তি এনে দেবে।
এতকিছুর পরও আমার একটা স্বপ্ন আছে। এমন একটা স্বপ্ন যার শিকড় আমেরিকার মূল স্বপ্নে আবদ্ধ। এ জাতি একদিন জেগে উঠবে এবং তার সত্যিকার আদর্শ অনুসরণ করবে। আমরা এই সত্যে বিশ্বাসী যে,  পৃথিবীর সব মানুষকে সমানভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে।
একদিন জর্জিয়ার লাল পাহাড়ে ক্রীতদাসের সন্তানেরা এবং তাদের মালিকেরা একত্রে ভ্রাতৃত্বের টেবিলে বসতে পারবে। `মিসিসিপি`, যেখানে অন্যায়-অত্যাচারের বিভীষিকা মাত্রা ছাড়িয়েছে, সেটি একদিন স্বাধীনতা আর সুবিচারের নন্দনকাননে পরিণত হবে। আমার ছোট চার সন্তান এমন এক জাতিতে বাস করবে যেখানে তারা তাদের গাত্রবর্ণ দ্বারা মূল্যায়িত না হয়ে তারা তাদের চারিত্রিক উৎকর্ষ দ্বারা মূল্যায়িত হবে। আজকে আপনাদের কাছে আমি এই স্বপ্নগুলো নিয়ে হাজির হয়েছি।
আমি স্বপ্ন নিয়ে এসেছি একদিন অ্যালাবামায় ছোট ছোট কৃষ্ণাঙ্গ বালক-বালিকারা শ্বেতাঙ্গ বালক-বালিকাদের সাথে হাত মেলাবে। ভাইবোনের মতো। একদিন প্রতিটি উপত্যকা উন্মুক্ত হবে। জানি মুক্তি আমাদের আসবেই। সেই দিন খুব বেশি দূরে নয়। দিন! এবং সেই দিন ঈশ্বরের সকল সন্তান গেয়ে উঠবে...এ আমার দেশ...স্বাধীনতার স্বর্গভূমি। স্বাধীনতার ঘণ্টা বাজতে থাকুক সমগ্র আমেরিকা জুড়ে।
আমরা যখন স্বাধীন হব তখন বাড়ি থেকে বাড়িতে, গ্রাম থেকে গ্রামে, উপশহর থেকে উপশহরে, প্রতিটি রাজ্যে, আকাশে, বাতাসে স্বাধীনতার তোপধ্বনি দেব। সেদিন ঈশ্বরের প্রতিটি সন্তান, সাদা-কালো, ইহুদি-নাসারা,  প্রোটেস্ট্যান্ট-ক্যাথলিক প্রত্যেকে একত্রে হাত রেখে প্রাচীন নিগ্রোদের প্রাণের সুরে বলব, অবশেষে আমরা মুক্ত! অবশেষে আমরা মুক্ত! সর্বশক্তিমান ঈশ্বরকে ধন্যবাদ। অবশেষে আমরা মুক্ত’
জা.হো