20-Sat-Jul-2019 10:14am

Position  1
notNot Done

চীনের তারকা ফার্স্ট লেডি

zakir

2018-01-9 15:48:04

দ্য পলিটিক্স ডেস্ক:  মাও জে দংয়ের পর এই প্রথম 'গ্ল্যামারাস' ফার্স্টলেডি পেতে চলেছে চীন। চীনের বর্তমান প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বিখ্যাত স্ত্রী, গায়িকা পেং লিউয়ান এখন দেশটির ফার্স্টলেডি।  আজ থেকে প্রায় ২০ বছর আগে যখন দু'জনের বিয়ে হয়েছিল, পেং তখনই রীতিমতো জনপ্রিয়। জিনপিং তখন সবে মাত্র শিয়ামেন শহরের ডেপুটি মেয়র। বেশ কয়েক মাস প্রেমের পর গাঁটছড়া বাধেন দু'জনে। এরপর অন্য কমিউনিস্ট নেতাদের মতোই ধীরে ধীরে পদোন্নতি হয় তার। জিনপিং ক্রমশ দলের ওপরের দিকে উঠে আসতে থাকেন। বাড়তে থাকে তার ক্ষমতা। এ নিয়ে অবশ্য নানা জনের নানা মত পাওয়া যায়। অনেকেরই দাবি, জিনপিংয়ের তুলনায় পেং লিউয়ান অনেক বেশি জনপ্রিয়। বস্তুত পরে রাজনৈতিক মহলের একাংশের বক্তব্য জিনপিংয়ের কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষে উঠে আসার পেছনে অন্যতম কারণ তার স্ত্রী। যিনি কয়েক দশক ধরে মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছেন অগণিত দর্শককে।

প্রায় তিন দশক পরে এমন একজন ব্যক্তিত্বকে ফার্স্টলেডির ভূমিকায় দেখতে পায় চীন। এ কারণ মাও জে দং ছাড়া আর কোনো প্রেসিডেন্টের স্ত্রীকেই সরাসরি রাজনীতিতে বা সাধারণ মানুষের কাছাকাছি আসতে দেখা যায়নি। তাই নতুন করে প্রশ্ন উঠছে মাও এবং তার অভিনেত্রী স্ত্রী জিয়াং কুইংয়ের বিষয়ে এবং তার ভবিষ্যৎ নিয়ে। বিয়ের পর অভিনয় ছেড়ে দিয়েছিলেন জিয়াং। এমনকি এই জিয়াং কুইং নামটিও তার ছদ্মনাম। মঞ্চে অভিনয় করার সময় তিনি পরিচিত ছিলেন ল্যান পিং নামে। বিয়ের পর সেই নাম বদলে হন জিয়াং কুইং। অনেকে তাকে 'ম্যাডাম মাও' বলেও ডাকতেন।


১৯৪০ সাল থেকে মাওয়ের ব্যক্তিগত সচিব পদে কাজ করতে শুরু করেন জিয়াং। জড়িয়ে পড়েন আরো বেশ কিছু সরকারি কাজে। ফিল্মসহ সংস্কৃতি বিষয়ক দপ্তরগুলো ছিল তার অধীনে। কমিউনিস্ট পার্টির চার সদস্যকে নিয়ে তৈরি করেন 'গ্যাং অফ ফোর'। কিন্তু মাওয়ের মৃত্যুর পর দলের সঙ্গে বিরোধ বাধে জিয়াংয়ের। তার তখন অগাধ ক্ষমতা, কিন্তু মাওয়ের অনুপস্থিতিতে পুরুষশাসিত কমিউনিস্ট পার্টিতে জিয়াংয়ের মাথা থেকে উঠে যায় সমর্থনের হাত। ক্ষমতা না ছাড়তে চাওয়া জিয়াংকে বন্দি করা হয়। দেয়া হয় মৃত্যুদণ্ড। পরে শাস্তি কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড মেলে জিয়াং এবং তার সহযোগীদের। দাবি, ১৯৯১ সালে আত্মঘাতী হয়েছিলেন তিনি। তবে বিতর্ক রয়েছেই।

দিকে পেং লিউয়ান শুধু গায়িকাই নন, ১৮ বছর বয়সে তার কর্মজীবন শুরু 'লিবারেশন আর্মি'র যোদ্ধা হিসেবে। তাই প্রেসিডেন্টের স্ত্রী কোন পথে চলবেন, তা নিয়ে এরই মধ্যে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এখন বলছেন, এ প্রশ্নের উত্তর সময়ই বলে দেবে।
জা.হো.