19-Wed-Dec-2018 02:31pm

Position  1
notNot Done

মানবাধিকার প্রতিবেদন-২০১৪

zakir

2018-01-14 19:30:37

দ্য পলিটিক্স রিপোর্ট: ২০১৪ সালের মানবাধিকার পরিস্থিতি চিত্র তুলে ধরে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) জানিয়েছে, এ বছর দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ছিল উদ্বেগজনক। অপহরণ, গুম, গুপ্ত হত্যা, ক্রসফায়ার ও বন্দুকযুদ্ধের নামে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড দ্বিগুণ বেড়েছে। সংগঠনটি বলেছে, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে এতে মারা গেছে ১৪৭ জন আহত হয়েছে ৮ হাজার ৩৭৩ জন।
৩১ ডিসেম্বর (২০১৪) দুুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে আসকের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশকালে এসব তথ্য তুলে ধরে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এডভোকেট সুলতানা কামাল।  সুলতানা কামাল জানান, গত এক বছরে দেশের সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি ছিল উদ্বেগজনক। বিগত বছরগুলোর মতো এ বছরেও অপহরণ, গুম, গুপ্তহত্যা, ক্রসফায়ার ও বন্দুকযুদ্ধের নামে বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড অব্যাহত ছিল।
তিনি জানান, বিগত বছরগুলোর মতো ২০১৪ সালেও বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড অব্যাহত ছিল। ২০১৩ সালে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ৭২ জন। এটি এ বছর বেড়ে ১২৮ এ দাঁড়িয়েছে। এ বছর দেশে অপহরণের পর গুম ও গুপ্তহত্যার শিকার হয়েছেন ৮৮ জন। অপহৃতদের মধ্যে ১২ জন ফিরে এসেছেন স্বজনদের কাছে। ২৩ জনের লাশ উদ্ধার হয়েছে। দু’জন কারাগারে থাকলেও বাকিদের কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। আসকের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৪ সালে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্যাতনে মারা গেছেন ১৩ জন।
অন্যদিকে ৫ জানুয়ারির ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও পরবর্তী সময়ে উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে যে সহিংসতার ঘটনা ঘটে, এতে দেশে ৬৬৪টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৪৭ জন। আহত হয়েছেন আট হাজার ৩৭৩ জন।
সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়, ১ থেকে ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিহত হয়েছিলেন ২৪ জন। উপজেলা নির্বাচনে সহিংসতায় মারা যান ১১ জন। আহত হয়েছেন সহস্রাধিক। আসকের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০১৪ সালে মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সময় সরকারের পক্ষ থেকে বাধা দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বছর খুন হয়েছেন দু’জন সাংবাদিক। নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ২৩৯ জন। তারা বলছেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হিন্দু সম্প্রদায়ের ৭৬১টি বাড়ি ঘরে ভাঙচুর ও আগুন দেয়া হয়েছে। ১৯৩টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আগুন দেয়া ও ভাঙচুর করা হয়েছে। ২৪৭টি মন্দির ও প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে।
আসকের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০১৪ সালে সীমান্তহত্যা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে ২৭৩টি। এ সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বিএসএফের গুলীতে ১৬ জন নিহত ও ১৬ জন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। অপহরণের শিকার হয়েছেন ১১০ জন। সীমান্তহত্যা ও নির্যাতনের বিষয়ে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে দফায় দফায় বৈঠক হলেও কোনও সমাধান হয়নি। সুুলতানা কামাল জানান, ২০১৪ সালে আশঙ্কাজনক হারে নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এ বছর ৭০৭ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ধর্ষণের পর ৬৮ জনকে হত্যা করা হয়েছে। ধর্ষণের পর আত্মহত্যা করেছেন ১৩ জন। সালিশ ও ফতোয়াবাজির কারণে ৩২ জন নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।  তিনি বলেন, গেল বছরে কমেনি পারিবারিক নির্যাতন ও গৃহকর্মী নির্যাতন। এসিড নিক্ষেপের শিকার হয়েছেন ৪৮ জন। যার মাত্র ১৩টি ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। যৌতুকের কারণে ২৯৬ জন নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৪৮৮ জন। যার মধ্যে থানায় মামলা হয়েছে ২৬১টি। ৬১ জন গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে মাত্র ২৯টি। মানব পাচারের উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরে আসক বলছে, ২০১৪ সালে অভিবাসী শ্রমিক ও মানব পাচারও বেড়েছে। আসকের পক্ষ থেকে দাবি তোলা হয়, দেশের সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নে প্রয়োজন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য ও সহিংস রাজনীতি পরিহার।