17-Mon-Dec-2018 07:42am

Position  1
notNot Done

বিশ্বের সর্বহারা শ্রেণীর অবিসংবাদী নেতা লেনিন

zakir

2018-01-17 09:05:01

শ্রীদীপ ভট্টাচার্য: বিশ্ব কমিউনিস্ট আন্দোলনের মহান নেতা কমরেড ভি আই লেনিন। সমগ্র বিশ্বের সর্বহারা শ্রেণীর অবিসংবাদী নেতা ও শিক্ষক লেনিন। জন্ম ১৮৭০ সালের ২২শে এপ্রিল রুশ দেশের সিমবির্স্ক শহরে। প্রকৃত নামছিল ভ্লাদিমির ইলিচ উলিয়ানভ। লেনিন নামেই তিনি পরিচিত ছিলেন। অল্প বয়সেই তিনি মার্কসবাদের প্রতি আকৃষ্ট হন। অল্প সময়ের মধ্যে তিনি একজন উন্নত মানের মার্কসবাদী নেতা হিসাবে নিজেকে উন্নীত করেন। সেন্ট পিটার্সবুর্গের শ্রমিকদের মধ্যে মার্কসবাদী পাঠচক্র গড়ে তোলা, শ্রমিকদের সংগঠিত করার মধ্য দিয়ে তিনি অসাধারণ সাংগঠনিক দক্ষতার পরিচয় দেন। পরবর্তীকালে সমগ্র রুশ দেশের শ্রমিকশ্রেণীকে সংগঠিত করা ও রুশ দেশে কমিউনিস্ট পার্টি গড়ে তোলার কাজে তিনি অন্যতম নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করেন।
রুশ বিপ্লবের কর্ণধার
১৯১৭ সালের মহান নভেম্বর বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন লেনিন। নভেম্বর বিপ্লবের মধ্য দিয়ে সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠিত হয়। বিশ্বের প্রথম সর্বহারা রাষ্ট্রই হলো সো‍‌ভিয়েত ইউনিয়ন। বিংশ শতাব্দীর মানব সভ্যতার ইতিহাসে অন্যতম দিকচিহ্নকারী ঘটনা হলো নভেম্বর বিপ্লব। এই বিপ্লব শোষণ-ভিত্তিক সমাজের অবসান সূচীত করলো। পুঁজি ও মুনাফার স্বার্থে নয়, শোষিত-বঞ্চিত জনগণের স্বার্থে রাষ্ট্র — সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে তার প্রথম প্রতিফলন ঘটলো। বিপ্লব সফল করা, শিশু সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রকে সমস্ত ষড়যন্ত্র ও আক্রমণ থেকে রক্ষা করা এবং একটি পশ্চাদপদ পুঁজিবাদী দেশে সমাজতন্ত্র গড়ে তোলার কাজ এই সমস্ত ক্ষেত্রেই ছিল লেনিনের অসাধারণ নেতৃত্ব। সো‍‌ভিয়েত ইউনিয়নের পতন ঘটলেও একথা কে অস্বীকার করবে যে, মানব সভ্যতার গতিধারায় নভেম্বর বিপ্লব ও সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়নের কার্যধারা (সে অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রেই হোক বা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেই হোক) যে অসাধারণ প্রভাব সৃষ্টি করেছে তাকে কখনই ম্লান করা যাবে না। পুঁজির শোষণ, সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন ও যুদ্ধ এই সমস্ত কিছুর বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী সংগ্রামকে সম্পূর্ণ নতুন স্তরে উন্নীত করার ক্ষেত্রে সো‍‌ভিয়েত ইউনিয়ন অসাধারণ ভূমিকা পালন করেছে।
কমিউনিস্ট পার্টি — লেনিনের শিক্ষা
নভেম্বর বিপ্লব রুশ দেশের মাটিতে সফল হয়েছিল কারণ শ্রমিকশ্রেণীর প্রকৃত বিপ্লবী পার্টি হিসাবে রুশ কমিউনিস্ট পার্টি (বলশেভিক পার্টি) সেই দেশে গড়ে উঠেছিল। মার্কসবাদের ইতিহাসে লেনিনই সর্বপ্রথম পার্টি সম্পর্কিত দলিল সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করলেন। কমিউনিস্ট পার্টি হলো সর্বহারার সেই সংগঠন যা ব্যতিরেকে সর্বহারার একনায়কত্বর সংগ্রাম কখনই সফল হতে পারে না — পার্টি সম্পর্কে লেনিনের শিক্ষার এটাই হলো মর্মবস্তু।
শ্রমিকশ্রেণীর নেতৃত্বে বিপ্লব যার মধ্য দিয়ে শোষণের অবসান ঘটবে — এই লক্ষ্য সম্পাদনের উদ্দেশ্যে যে পার্টি তা কখনই ঢিলেঢালা ধরনের হবে না। বিপ্লবী শ্রমিকশ্রেণীর অগ্রণী বাহিনী হিসাবে এই পার্টিকে গড়ে উঠতে হবে। এক সম্পূর্ণ নতুন ধরনের পার্টি হবে কমিউনিস্ট পার্টি, এটা লেনিনই প্রথম উপলব্ধি করেছিলেন এবং সূত্রায়িত করেছিলেন। শ্রমিকশ্রেণীসহ জনগণের সাথে এই পার্টির থাকবে এক জীবন্ত সম্পর্ক। এই প্রাণবন্ত সম্পর্কের মধ্য দিয়েই কমিউনিস্ট পার্টি শক্তি অর্জন করবে। লে‍‌নিনের নেতৃত্বে রুশ দেশের পার্টি এভাবেই গড়ে উঠেছিল। রুশ কমিউনিস্ট পার্টির ষষ্ঠ কংগ্রেস ১৯১৭ সালের ২৬শে জুলাই থেকে ৩রা আগস্ট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এই কংগ্রেস থেকেই কেরেনস্কির নেতৃত্বে বিশ্বাসঘাতক অস্থায়ী সরকারের উৎখাতের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছিল। তখন পার্টির সদস্য সংখ্যা ছিল দুই লক্ষ চল্লিশ হাজার। কিন্তু পার্টি ছিল সুসংবদ্ধ ও ঐক্যবদ্ধ এবং মতাদর্শে দৃঢ়। শ্রমজীবী মানুষের অধিকাংশের সমর্থন ও সহযোগিতা অর্জন করতে সমর্থ হয়েছিল পার্টি। তাই তো বিপ্লব সফল হয়েছিল।
মার্কসীয় মতাদর্শকেও সমৃদ্ধ করলেন লেনিন
সমগ্র জীবন ধরেই বিপ্লবী সংগ্রামের মধ্যে নিয়োজিত ছিলেন লেনিন। লেনিনের মধ্যে প্রকৃত মার্কসবাদী হিসাবে তত্ত্ব ও কর্মের অসাধারণ সমন্বয় ঘটেছিল। মাত্র ৫৪ বছর বয়সে এই মহান বিপ্লবী নেতার জীবনাবসান ঘটে। সমগ্র জীবন বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের মধ্যে ব্যাপৃত থাকার সাথে সাথে মার্কসবাদী মতাদর্শ আত্মস্থ করা ও তাকে আরও সমৃদ্ধ করার কাজেও তিনি ঐতিহাসিক অবদান রেখে গেছেন।
মার্কসীয় দর্শনের ক্ষেত্রে অবদান
বস্তুবাদী দৃষ্টিভঙ্গিতে সমস্ত কিছুকে দেখা এবং যান্ত্রিক নয় দ্বান্দ্বিক পদ্ধতিতে বস্তু জগতকে দেখা, এটাই মার্কসীয় দর্শনের মর্মবস্তু। এ জন্যই মার্কসীয় দর্শনকে দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ বলা হয়। মার্কস ও এঙ্গেলসের মৃত্যুর পর প্রকৃতি বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে প্রভূত বিকাশ ঘটলো। ইলেকট্রনের আবিষ্কার, কোয়ান্টাম তত্ত্ব, আ‍‌পেক্ষিকতার তত্ত্ব, অনিত্যতার সূত্র এই সমস্ত যুগান্তকারী আবিষ্কার এই সময়ে ঘটলো। এই আবিষ্কারগুলির মর্মার্থকে বিকৃতভাবে উপলব্ধি করার ফলে বস্তুর অস্তিত্বকে গুরুতরভাবে চ্যালেঞ্জ জানানো হলো। দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদকে কঠিন পরীক্ষার সামনে ফেলে দেওয়া হলো। প্রকৃত বিজ্ঞানের মহান আবিষ্কারগুলি প্রকৃতপক্ষে বস্তুর ও গতির নানা রূপকে উপস্থিত করলো। লেনিন এটা ব্যাখ্যা করে দেখান। এই ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদকে সমস্ত আক্রমণ থেকে রক্ষা করা ও তাকে আরও বিকশিত করার ঐতিহাসিক ভূমিকা লেনিন পালন করলেন। রচনা করলেন ‘মেটেরিয়ালিজম অ্যান্ড এম্পিরিও ক্রিটিসিজম’। এই গ্রন্থটি বিংশ শতাব্দীর প্রারম্ভিক দুই দশককে প্রবলভাবে আলোড়িত করলো। ‘ফিলজফিকাল নোট বুকস’ তাঁর মৃত্যুর কারণে অসমাপ্ত রয়ে গেল।
মার্কসীয় অর্থনীতি হলো বিকশিত
মার্কসীয় অর্থনীতি পুঁজিবাদী ব্যবস্থার প্রকৃত স্বরূপ উন্মোচিত করলো। পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় শোষণের ‍‌ভিত্তি ও উৎসকে তুলে ধরলো মার্কসীয় অর্থনীতি। সামাজিক উৎপাদন ও পুঁজিবাদী মালিকানার মধ্যেকার দ্বন্দ্বই যে পুঁজিবাদী ব্যবস্থার সঙ্কটের মূল কারণ তা ‘পুঁজি’ এই তিন খণ্ডের মহামূল্যবান ও ঐতিহাসিক গ্রন্থে কার্ল মার্কস বিশ্লেষণ করে দেখালেন। মার্কসীয় অর্থনীতিই পুঁজিবাদী ব্যবস্থার পতনের ঐতিহাসিক অনিবার্যতা তুলে ধরলো। শ্রমিক বিপ্লবের অবশ্যম্ভাবিতাকে সামনে আনলো মার্কসীয় অর্থনীতি। বিকাশের ধারায় পুঁজিবাদ যখন তার একচেটিয়ার স্তরে উত্তরণ ঘটাল তখনই সাম্রাজ্যবাদের আবির্ভাব ঘটলো। এইভাবে সাম্রাজ্যবাদের ব্যাখ্যা করে লেনিন মার্কসীয় অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করলেন। বর্তমান বিশ্বে যে লগ্নী পুঁজির সীমাহীন দাপট ও ঔদ্ধত্য আমরা দেখতে পাচ্ছি তার পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ লেনিন করেছিলেন। ব্যাঙ্ক পুঁজি ও শিল্প পুঁজির মিলনের মধ্য দিয়ে লগ্নী পুঁজির উদ্ভব ঘটে। সাম্রাজ্যবাদের যুগে পুঁজির রপ্তানি সাম্রাজ্যবাদী শোষণকে এক নতুন মাত্রা দেয়। বিশ্ব বাজারের সন্ধান পুঁজিবাদের বৈশিষ্ট্য একথা কার্ল মার্কস ও ফ্রেডরিখ এঙ্গেলস ‘কমিউনিস্ট ইশ্‌তেহার’-এ পরিষ্কারভাবে দেখিয়েছেন। লগ্নী পুঁজির কার্যধারা আন্তর্জাতিক — এই শিক্ষা লেনিন আমাদের দিয়েছেন। সাম্রাজ্যবাদী যুগে পুঁজিবাদী ‍‌শোষণ, দমন হয় আরও তীব্রতর ‘সাম্রাজ্যবাদ-পুঁজিবাদের সর্বোচ্চ রূপ’ এই গ্রন্থে লেনিন স্পষ্টভাবে দেখালেন। বর্তমান বিশ্বে বিশ্বায়নের নামে লগ্নী পুঁজির বর্বরতা ভয়াবহ মাত্রায় পৌঁছেছে। ‘পুঁজির প্রাথমিক সঞ্চয়’-র আধুনিক রূপ যেমন আমরা প্রত্যক্ষ করছি, সাথে সাথে প্রাকৃতিক সম্পদের উৎসগুলিকে নিজেদের কর্তৃত্বে আনার জন্য সাম্রাজ্যবাদ যে কোনরকম পদ্ধতি গ্রহণ করার কসুর করছে না। মার্কসীয় অর্থনীতিকে লেনিন সাম্রাজ্যবাদী যুগে যেভাবে বিকশিত করলেন তা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। বর্তমান সময়ে লগ্নী পুঁজির তীব্র কেন্দ্রিকরণ ও অভূতপূর্ব আন্তর্জাতিকীকরণের যুগকে বোঝা ও বিশ্লেষণের ভিত্তি হলো সাম্রাজ্যবাদ প্রসঙ্গে লেনিনের শিক্ষা। একথা বলার অর্থ এটা নয় যে ভি আই লেনিন যে সাম্রাজ্যবাদকে মোকাবিলা করেছেন তা একই স্থানে দাঁড়িয়ে রয়েছে। নিঃসন্দেহে বর্তমান সময়ে সাম্রাজ্যবাদের কার্যধারায় কিছু নতুন উপাদান যুক্ত হয়েছে, পুরাতন কিছু উপাদানের বেশ কিছু পরিবর্তন সাধিত হয়েছে।
সমাজ বিপ্লবের তত্ত্ব হলো সমৃদ্ধ
পুঁজিবাদ থেকে সমাজতন্ত্রের উত্তরণ একমাত্র সম্ভব বিপ্লবের মাধ্যমে। শোষকদের ক্ষমতা থেকে অপসারিত করে সর্বহারার নেতৃত্বে শোষিতদের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করাই সর্বহারা বিপ্লবের মূল লক্ষ্য। পুঁজিবাদ উত্তর সমাজ হলো সমাজতন্ত্র। উন্নত পুঁজিবাদী দেশেই প্রথম সংঘটিত হবে সর্বহারা বিপ্লব এমনটা ভাবার কোন কারণ নেই। এমনকি পশ্চাদপদ পুঁজিবাদী দেশেও সর্বহারা বিপ্লব সফল হতে পারে যদি বিষয়গত ও বিষয়ীগত অবস্থা আকাঙ্ক্ষিত স্তরে পৌঁছায়। মার্কসীয় বিপ্লবী তত্ত্বকে সমৃদ্ধ করে লেনিন এই গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা আমাদের কাছে উপস্থিত করলেন। শুধু তত্ত্বগত আলোচনাই নয়, তৎকালীন পশ্চাৎপদ পুঁজিবাদী দেশ রাশিয়ায় এই শিক্ষাকে বাস্তব রূপ দিলেন। বিপ্লব ও বিপ্লবী সংগ্রাম সম্পর্কে লেনিনের মহামূল্যবান শিক্ষা মার্কসবাদের ভাণ্ডারকে স্ফীত ও সমৃদ্ধ করেছে। সাথে সাথে রাষ্ট্র ও তার আবির্ভাব, বিকাশ ও অবলুপ্তি সম্পর্কে মার্কসীয় শিক্ষাকে তিনি বিকশিত করলেন।
বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের মতবাদ — মার্কসবাদ-লেনিনবাদ
মার্কসীয় মতবাদকে নানাভাবে বিকশিত করলেন ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিন। সেই জন্যই তাঁর মৃত্যুর পর বিশ্ব কমিউনিস্ট আন্দোলন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যে, এই মতবাদকে মার্কসবাদ-লেনিনবাদ হিসাবে অভিহিত করাই হবে সঠিক। তারপর থেকেই সমগ্র বিশ্বজুড়ে এই মতবাদকে মার্কসবাদ-লেনিনবাদ হিসাবেই অভিহিত করা হয়।
লেনিনের শিক্ষা আত্মস্থ করে অগ্রসর হতে হবে
বর্তমান পৃথিবীতে লেনিনের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত সোভিয়েত ইউনিয়নের অস্তিত্ব নেই বলে বিশ্ব পুঁজিবাদ নিজেকে সঙ্কটমুক্ত করতে সক্ষম হয়নি। বিশ্ব পুঁজিবাদ উত্তরোত্তর নতুনতর সঙ্কটের মধ্যে নিমজ্জিত হচ্ছে। দারিদ্র্য, বৈষম্য সমগ্র বিশ্বের সমস্ত পুঁজিবাদী দেশে প্রত্যক্ষ করা যাচ্ছে। একদিকে বিজ্ঞান-প্রযুক্তির বিস্ময়কর অগ্রগতি, অপরদিকে এর সুফল থেকে বঞ্চিত অধিকাংশ মানুষ। পুঁজিবাদ অর্থই হলো শোষণ, বঞ্চনা। সাম্রাজ্যবাদের অবিসংবাদী নেতা হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে উঠে পড়ে লেগেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুগ হিসাবে তুলে ধরতে চাইলেও প্রতি মুহূর্তে শক্ত বিরোধিতার মুখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে পড়তে হচ্ছে। ভারতের মতো দেশগুলির স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করে দিয়ে অবাধ লুণ্ঠনের সাম্রাজ্যবাদী প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে জনগণের তীব্র থেকে তীব্রতর প্রতিরোধ সকলেই প্রত্যক্ষ করছেন। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ নিজের অনুকূলে বিশ্ব প্রতিষ্ঠা করতে চাইলেও তা আজ কঠিন প্রতিরোধ ও চ্যালেঞ্জের সামনে।
দেশে দেশে শোষণের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী সংগ্রাম তীব্রতর হচ্ছে। তবে একথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে পুঁজিবাদী ব্যবস্থার অবসান ঘটানোর লক্ষ্যকে নিয়ে উপরোক্ত সংগ্রামগুলির অধিকাংশই এখনও পরিচালিত হচ্ছে না। এই সংযুক্তিকরণ ব্যতিরেকে সাম্রাজ্যবাদকে দুর্বল করা ও উন্নত সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা হবে না। সেই জন্যই লেনিন আজ আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছেন।