17-Mon-Dec-2018 07:41am

Position  1
notNot Done

‘স্বাধীনতা অর্জনের কোনো সহজ পথ নেই’

zakir

2018-01-19 12:15:27

দ্য পলিটিক্স ডেস্ক: সর্বগ্রাসী বর্ণবাদের বিরুদ্ধে সফল সংগ্রামের আরেক নাম নেলসন ম্যান্ডেলা। দক্ষিণ আফ্রিকার কুনু গ্রামে এক উপজাতীয় নেতার ঘরে ১৯১৮ সালের ১৮ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন তিনি। পরিণত বয়সে আইনের ছাত্র হিসেবে ম্যান্ডেলা আইন পেশাকে বেছে নিতে চাইলেও আইনেরই অপপ্রয়োগে তাকে দীর্ঘ প্রায় ২৮ বছর বরণ করতে হয় কারা জীবন। যার শুরু ১৯৬২ সালে আর শেষ হয় ১৯৯০ সালে। কৃষ্ণাঙ্গ এই নেতার মূল সংগ্রাম ছিল কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর শ্বেতাঙ্গদের বর্ণবাদী আচরণের বিরুদ্ধে। শাসকের রক্তচক্ষু, নির্যাতন, জেল-জুলুম এমনকি মৃত্যুকে উপেক্ষা করে তিনি কেবল নিজেই সংগ্রাম করেননি, বরং তার অপূর্ব বক্তৃতার দ্বারা উজ্জীবিত করেন পৃথিবীর সব শোষিত মানুষকে। তাই ম্যান্ডেলা কেবল দক্ষিণ আফ্রিকার নেতাই নন, যে কোনো অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের এক সার্থক প্রতীক, এক অনন্য প্রতিষ্ঠান। রাজনৈতিক জীবনে তিনি বহু ভাষণ দেন, যা একাধিকবার শাসকদের ভিত কাঁপিয়ে তোলে। কখনো সংগ্রাম, কখনো আত্মত্যাগ, কখনো বা একাত্মতার জন্য ক্ষমা করার আহ্বান সংবলিত তার প্রতিষ্ঠিত ভাষণ ইতিহাসের মূল্যবান সম্পদ। তবে ১৯৫৩ সালের ২১ সেপ্টেম্বর আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের সভাপতি বা প্রেসিডেন্ট হিসেবে নেলসন ম্যান্ডেলার বক্তৃতাটি স্মরণীয় হয়ে আছে অনন্য বৈশিষ্ট্যের কারণে। এই বক্তৃতার অনেকটুকুই পরবর্তী সময়ে তার বিরুদ্ধে চলা আইনি যুদ্ধে কখনো তার নিজ কণ্ঠে আবার কখনোবা তার আইনজীবীদের কণ্ঠে বারংবার উচ্চারিত হয়েছে। ম্যান্ডেলা ২১ সেপ্টেম্বরের এই বক্তৃতা শুরু করেন ১৯১২ সাল থেকে কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর চলমান শ্বেতাঙ্গদের নির্যাতনের কথা দিয়ে, যা সমালোচিত হয়েছে ঘরে-বাইরে, প্রাদেশিক ও জাতীয় সমাবেশে, ট্রেনে-বাসে, কল-কারখানায়, খেত-খামারে, গ্রামগঞ্জে, শহরে, স্কুলে এবং জেলখানায়। ছন্দময় এবং কাব্যিক এই বক্তৃতায় ম্যান্ডেলা শত প্রতিকূলতার মাঝেও জনগণের রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিজেদের শক্তি সম্পর্কে সচেতনতাকে তাদের জন্য এক বিজয় বলে উল্লেখ করেন। তবে সবচেয়ে বড় বিজয় বা স্বাধীনতার কথা বলতে গিয়ে ম্যান্ডেলা উল্লেখ করেন তার অমর বাণী, ‘স্বাধীনতা অর্জনের কোনো সহজ পথ নেই।’