17-Mon-Dec-2018 07:44am

Position  1
notNot Done

৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নায়ক

zakir

2018-02-3 12:44:33

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের স্নেহধন্য, ’৬৯-এর পূর্ব বাংলার অবিসংবাদিত ছাত্রনেতা তোফায়েল আহমেদ ১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলার কোড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মৌলভী আজহার আলী এবং মা ফাতেমা বেগম। ১৯৬৪ সালে ধনিয়াস্থ আলহাজ মফিজুল হক তালুকদারের জ্যেষ্ঠা কন্যা আনোয়ারা বেগমের সঙ্গে তিনি পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হন। তাঁরা এক কন্যাসন্তানের জনক-জননী। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী জননেতা তোফায়েল আহমেদ ভোলা সরকারী হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করে বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ থেকে আইএসসি এবং বিএসসি পাস করেন যথাক্রমে ১৯৬২ এবং ১৯৬৪ সালে। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৃত্তিকা বিজ্ঞানে এমএসসি পাস করেন। কলেজজীবন থেকেই তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে সম্পৃক্ত। ব্রজমোহন কলেজ ছাত্র সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক পদে এবং কলেজের হোস্টেল অশ্বিনী কুমার হলের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন ১৯৬২ সালে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ১৯৬৪তে ইকবাল (বর্তমানে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) হল ছাত্র-সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক, ১৯৬৫তে মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের সহ-সভাপতি, ১৯৬৬-৬৭তে ইকবাল হল ছাত্র-সংসদের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত তিনি ডাকসুর ভিপি থাকাকালীন ’৬৯-এর মহান গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেন। উল্লেখ্য, ১৯৬৬-এর ৮ মে থেকে ১৯৬৯-এর ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় ৩৩ মাস কারাগারে আটক থাকা বঙ্গবন্ধু মুজিবকে মুক্ত করতে তোফায়েল আহমেদের নেতৃত্বে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ সারা বাংলায় তুমুল গণআন্দোলন গড়ে তোলে। এবং ’৬৯-এর ২২ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু মুজিবসহ সকল রাজবন্দীকে মুক্ত করেন। আর ২৫ মার্চের মধ্যে প্রবল পরাক্রমশালী তথাকথিত লৌহমানব আইয়ুব খানকে পদত্যাগে বাধ্য করে গৌরবের যে ইতিহাস সৃষ্টি করেন তা ছিল মহান মুক্তিযুদ্ধের ড্রেস রিহার্সেল। ১৯৬৯-এ তিনি ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৭০-এর ৭ জুন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। বস্তুত এরপর তোফায়েল আহমেদকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। স্বাধীনতাপূর্ব ছাত্র ও গণআন্দোলনে সফল নেতৃত্ব প্রদান করায় তোফায়েল আহমেদ দেশবাসীর আস্থা অর্জন করেন। আবাসিক হল ও ডাকসুর ভিপি থাকাকালেই তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একান্ত সাহচর্যে আসেন। ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে ভোলার দৌলতখাঁ-তজুমদ্দিন-মনপুরা আসন থেকে মাত্র ২৭ বছর বয়সে তিনি পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ছিলেন ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং মুজিব বাহিনীর অঞ্চলভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত চার প্রধানের একজন। বরিশাল, পটুয়াখালী, খুলনা, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া ও পাবনা সমন্বয়ে গঠিত মুজিব বাহিনীর পশ্চিমাঞ্চলের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর দেশ গড়ার সংগ্রামে তোফায়েল আহমেদের ভূমিকা ছিল অতুলনীয়। ১৯৭১-এ প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ গণপরিষদে এবং ১৯৭২-এ বাংলাদেশ গণপরিষদ কর্তৃক গৃহীত সংবিধান প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় তিনি সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭২-এর ১৪ জানুয়ারি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় তাঁকে তাঁর রাজনৈতিক সচিব নিয়োগ করেন। এ পদে তিনি ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত বহাল ছিলেন। ১৯৭৩-এ তিনি জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৫-এ দেশে রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার ঘোষণার পর তিনি প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় রাষ্ট্রপতির বিশেষ সহকারী নিযুক্ত হন। তোফায়েল আহমেদ বঙ্গবন্ধুর সাথে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সফরে তাঁর সফরসঙ্গী হন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ভারত, সোভিয়েত ইউনিয়ন, অটোয়াতে কমনওয়েলথ সম্মেলন, লাহোরে অনুষ্ঠিত ওআইসি সম্মেলন, আলজিরিয়ায় অনুষ্ঠিত জোটনিরপেক্ষ সম্মেলন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন। এছাড়াও যুগোসøাভিয়া, ইরাক এবং জ্যামাইকায় অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ সম্মেলনেও যোগদান করেন। ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট জাতির জনকের নির্মম হত্যাকান্ডের পর একই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর তোফায়েল আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়। দীর্ঘ তিন বছর তিনি কারান্তরালে ছিলেন। ১৯৭৯তে কুষ্টিয়া কারাগারে অন্তরীণ থাকা অবস্থায় তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন। দীর্ঘদিন সাফল্যের সাথে এই পদ অলঙ্কৃত করে, আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করে, সামরিক শাসনবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগঠিত করেন। ১৯৮৬, ’৯১ এবং ’৯৬ সালের সংসদ নির্বাচনে পরপর তিনি এমপি নির্বাচিত হন। ১৯৯১ এবং ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে ভোলা-১ ও ভোলা-২ আসন থেকে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬-এ অনুষ্ঠিত নির্বাচনের গণরায়ে দীর্ঘ ২১ বছর পর মহান জাতীয় মুক্তিসংগ্রামের নেতৃত্ব প্রদানকারী দল আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন হলে জননেত্রী শেখ হাসিনার জাতীয় ঐকমত্যের সরকারে তিনি শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন। অর্পিত দায়িত্ব সাফল্যের সঙ্গে যথাযথভাবে পালন করে দেশে-বিদেশে সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেন। মন্ত্রী হিসেবে বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় সম্মেলনে যোগদান করে বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত দেশগুলোর পণ্য উন্নত দেশগুলোতে শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকারের অঙ্গীকার আদায় করেন। স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৫-এর মর্মন্তুদ ঘটনার পর জনগণের ভোটাধিকার অর্জন ও সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনের আন্দোলনে তোফায়েল আহমেদের অবদান অনস্বীকার্য। যে কারণে তিনি এরশাদ আমলে চারবার এবং ১৯৯৫-এ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে যে আন্দোলন সংগঠিত হয় তাতে খালেদা জিয়ার আমলেও দীর্ঘদিন জেল খাটেন। এছাড়াও ২০০২ খালেদা-নিজামী জোট সরকারের শাসনামলেও তিনি কারাবন্দী হন এবং তিনি রাজনৈতিক জীবনে তিনি সর্বমোট সাতবার কারাগারে অন্তরীণ থাকেন। বর্তমানে তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী।