19-Wed-Dec-2018 08:49pm

Position  1
notNot Done

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবাসী প্রার্থীরা

Zakir Hossain

2018-11-17 06:32:12

মুবিন খান: নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করে বলেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন  ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিলেও নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।তাদের দাবিকে বিবেচনায় নিয়ে ১২ নভেম্বর ঐক্যফ্রন্টের এই দাবির মুখে ইসি নির্বাচন ২৩ ডিসেম্বর থেকে সাতদিন পিছিয়ে ৩০ ডিসেম্বর ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু ঐক্যফ্রন্ট তাদের দাবিতে অনড় থাকে। তারা আবারও নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করে এবং একাদশ সংসদ নির্বাচন আরও তিন সপ্তাহ পিছিয়ে দেওয়ার দাবি জানায়। নির্বাচন কমিশন ঐক্যফ্রন্টের দাবিটিকে বিবেচনার আশ্বাস দিলেও গতকাল ১৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে প্রেস বিফ্রিংয়ে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জানিয়ে দেন যে, ৩০ ডিসেম্বরের পরে নির্বাচন পেছানো ইসির কাছে যথেষ্ট যৌক্তিক এবং বাস্তব সম্মত না হওয়ায় নির্বাচন পেছানোর আর কোনও সুযোগ নেই বলে ইসি সিদ্ধান্ত দিয়েছে। এর ফলে ঘোষিত তফসিল অনুয়ায়ী ৩০ ডিসেম্বরেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে সামনে রেখে দলীয় প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ার কাজটি এখনও করছে রাজনৈতিক দলগুলো। তিনশ’ আসনের বিপরীতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কিনেছে চার হাজার তিনশ’ সাতষট্টি জন। বিএনপির মনোনয়ন ফরম কিনেছে চার হাজার একশ’ বারো জন। জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের কাছে একশ’ আসন চাইবে বলে জানিয়েছে।

প্রার্থীর এই সংখ্যাধিক্যকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতৃত্বর ব্যর্থতা বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেছেন, একজন নেতৃত্ব সবাইকে একসঙ্গে রেখে সংগঠনকে শক্তিশালী করে গড়ে গড়ে তুলতে পারেন নাই বলেই এত প্রার্থী।

নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রত্যাশায় পিছিয়ে নেই প্রবাসীরাও। শুধু সিলেটেই এবারে নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে মনোনয়ন চেয়েছে এক ডজন প্রার্থী ইংল্যান্ড প্রবাসী। দশম জাতীয় সংসদেও দুজন প্রবাসী নির্বাচিত হয়েছিলেন।

পিছিয়ে নেই আমেরিকার প্রবাসীরাও। আমেরিকা থেকে আওয়ামী লীগ-বিএনপি-জাসদের অনেক রাজনীতিক নির্বাচনে প্রার্থী হতে বাংলাদেশে ফিরেছেন বলে জানা গেছে। আগেও আমেরিকার অনেক প্রবাসী বাংলাদেশে ফিরে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এবারও আপনাপন দলের মনোনয়ন পেতে দলের নীতি নির্ধারণী কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পক্ষে এসব প্রবাসী রাজনীতিক যুক্তি হিসেবে বলছেন, বাংলাদেশে প্রবাসীদের কোনও মূল্যায়ন করা হয় না। তাদের পক্ষে কেউ কথাবার্তা বলে না। ফলে যদি জাতীয় সংসদে বড় এবং প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে থাকা গেলে প্রবাসীদের জন্যে কিছু করুক বা না করুক, তাদের সুখদুখের কথা অন্তত শুনবে।

এবারই প্রথম নয়। এর আগে অনেক আমেরিকা প্রবাসী নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। তাদের অনেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিতও হয়েছেন। কেউ কেউ মন্ত্রীও হয়েছেন। তাদের মধ্যে কেন্দ্রীয় বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এহসানুল হক মিলন, সাবেক এমপি এম এম শাহীন অন্যতম। সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এহসানুল হক মিলন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক। তিনি একাধিকবার সংসদ সদস্যও নির্বাচিত হয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবদুস সামাদ আজাদ জামামালপুর-৪ আসন থেকে মনোনয়ন চেয়েছেন। ফারুক আহমদ চাইছেন সিলেট-৪ আসনটির জন্যে মনোনয়ন। ফারুক আহমদ যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগেরই সাংগঠনিক সম্পাদক। অন্যদিকে, জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি এ কে আবদুল মোমেন সিলেট-১ আসনটির জন্যে নিয়মিত যোগাযোগ করে চলেছেন। সম্প্রতি তিনি দেশে এসে সিলেট-১ আসনটির জন্যে এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগও করেছেন। সিলেট-১ আসনটিতে বর্তমান সংসদ সদস্য রয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এবারে একাদশ জাতীয় নির্বাচনে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত প্রার্থী হবেন না ঘোষণা দেওয়ার পর আওয়ামী লীগের কয়েকজন আসনটির জন্যে মনোনয়নের চেষ্টায় নেমেছেন। এ কে আবদুল মোমেন তাদের একজন।

যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতারাও দলীয় মনোনয়নের জন্যে সমান তালে এগিয়ে এসেছেন। যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল পাশা বাবুল চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনটির মনোনয়ন চেয়েছেন। তারেক রহমান স্বদেশ প্রত্যাবর্তন পরিষদের সভাপতি পারভেজ সাজ্জাদ চাইছেন চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনটি থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র শাখা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি সোলেমান ভূঁইয়া ফেনী-৩ (সোনাগাজী-দাগনভূঞা)  আসন থেকে এবং আরেক সাবেক সভাপতি আবদুল লতিফ সম্রাট নড়াইল-১ (কালিয়া) আসন থেকে মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে সূত্র জানিয়েছে। সোলেমান ভূঁইয়া ইতোমধ্যেই দেশে ফিরে নেতাকর্মীদের নিয়ে গণসংযোগ শুরু করে দিয়েছেন। আবদুল লতিফও শিগগিরই গণসংযোগে যুক্ত হতে আসছেন।

অপরদিকে প্রবাসী প্রার্থীদের মধ্যে যথেষ্ট আলোচিত হয়ে উঠেছেন নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ঠিকানার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও বর্তমানে সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি এম এম শাহীন। এম এম শাহীন মৌলভীবাজার-২ কুলাউড়া আসনটি থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশা করছিলেন। এর আগে এম এম শাহীন ১৯৯৬ সালে ১৫ ফেব্রুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনে বিএনপির পক্ষে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০১ সালে বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন। কিন্তু ২০০৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে আর জিততে পারেন নি। পরাজিত হন।

এবারও এম এম শাহীন মৌলভীবাজার-২ আসনটি থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশা করছিলেন। কিন্তু গতকাল বৃহস্পতিবার হঠাৎ করেই বি. চৌধুরীর বিকল্পধারায় আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন বিএনপি দলীয় এই সাবেক এমপি ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ঠিকানা পত্রিকার সম্পাদক এম এম শাহীন।

ফলে যুক্তফ্রন্টভুক্ত বিকল্পধারা যদি মহাজোটে যোগ দেয় এবং নিজস্ব প্রতীক বাদ দিয়ে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করতে যায়, তাহলে একসময়ের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী শাহীনও হয়ে যাবেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী।

এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের অন্যতম উপদেষ্টা ও যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি ও নিউজার্সী অঙ্গরাজ্যের প্লেইন্স বরো সিটির নির্বাচিত কাউন্সিলম্যান ড. নূরুন নবী, খবর ডট কম সম্পাদক শিব্বীর আহমেদ, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি আলহাজ্ব সোলায়মান ভূঁইয়া, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, যুক্তরাষ্ট্র জাসদ-এর সভাপতি আব্দুল মুসাব্বির, নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির সিনিয়র সাইন্টিস্ট ও কেন্দ্রীয় জিয়া পরিষদের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. জাহিদ দেওয়ান শামীম, যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জয়নাল আবেদীন জয়, সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা বিএনপির সভাপতি ও যুক্তরাষ্ট্র যুবদলের সহ সভাপতি নাসিম এম খান, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা ও বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন ইউএসএর সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের মিয়া এবং নিউইয়র্ক প্রবাসী মোহাম্মদ মাহমুদ আসছে সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী। এজন্য তাদের মধ্যে অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে, আবার কেউ কেউ তাদের প্রতিনিধির মাধ্যমে মনোনয়নপত্রর জন্যে লবিং আবেদন করছেন বলে সূত্র জানিয়েছে ।

ড. নূরুন নবী (আওয়ামী লীগ) টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভুয়াপুর), খবর ডট কম সম্পাদক শিব্বীর আহমেদ কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ ), আব্দুল মুসাব্বির (জাসদ) মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া), ড. জাহিদ দেওয়ান শামীম রাজশাহী-৪ (বাঘমারা), জয়নাল আবেদীন জয় (আওয়ামী লীগ) শরীয়তপুরের একটি আসন, নাসিম এম খান (বিএনপি) টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর), মোহাম্মদ মাহমুদ (আওয়ামী লীগ) টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভুয়াপুর) আসন থেকে মনোনয়ন চাইছেন বলে সূত্র জানিয়েছে।

মুবিন খান: প্রবাসী সাংবাদিক ও কলামিস্ট