27-Mon-May-2019 08:38am

Position  1
notNot Done

আমাদের দুঃখের কোনো সীমা নেই: সুলতানা কামাল

Zakir Hossain

2018-01-31 20:09:46

দ্য পলিটিক্স রিপোর্ট:   মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল বলেছেন, ‘আমরা ভীষণভাবে বিক্ষুব্ধ, মর্মাহত। আমাদের দুঃখের কোনো সীমা নেই। কারণ, মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় সাম্প্রদায়িক নির্যাতন হচ্ছে। নারীবিদ্বেষী, মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের মৌলবাদী শক্তির সঙ্গে আপস হচ্ছে। এসব সহ্য করতে পারি না।’

কবি সুফিয়া কামালের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি আয়োজিত ‘ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, আদিবাসী জনগোষ্ঠী এবং নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সকল প্রকার সন্ত্রাস-নির্যাতনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলি’ শীর্ষক স্মরণসভায় সুলতানা কামাল এসব কথা বলেন। সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সুফিয়া কামাল ভবন মিলনায়তনে এ স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়।

স্মরণসভার শুরুতেই কবির প্রতিকৃতিতে প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা এবং তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

কবির আত্মজা সুলতানা কামাল বলেন, ‘স্বল্প পরিসরে সুফিয়া কামালকে স্মরণ করলে তাঁকে খণ্ডিতভাবে উপস্থাপন করা হবে। আজ প্রথম আলোর মতো পত্রিকা তাঁকে স্মরণ করতে গিয়ে তাঁর অবদানকে খণ্ডিত করে প্রকাশ করেছে। বেশির ভাগ পত্রিকা তাঁকে স্মরণই করেনি। সারা বছর আমরা তাঁদের স্মরণ না করায় তরুণ প্রজন্ম বেগম রোকেয়া বা সুফিয়া কামালদের মতো মানুষ সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাচ্ছে না।’

সুলতানা কামাল বলেন, কিশোর বয়স থেকে সুফিয়া কামাল বৈরী পরিস্থিতিতেও স্বৈরশাসক আইয়ুবের সরাসরি বিরোধিতা করেছেন। সে সময়ে কাপ্তানবাজারে, মিরপুরে সাম্প্রদায়িক হামলার পরে তিনি তাঁদের কাছে ছুটে গেছেন।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সুলতানা কামাল বলেন, ‘সুফিয়া কামালের আকাঙ্ক্ষা ছিল, বাংলাদেশের যেকোনো নাগরিক যেন সম্মানে মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারে। সুফিয়া কামালের সেই আদর্শ সমাজে প্রতিষ্ঠা করার দায়িত্ব আমাদের সবাইকে নিতে হবে।’

সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম বলেন, ‘কবি সুফিয়া কামালকে স্মরণ করার মধ্য দিয়ে আমরা সবাই তাঁর আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর শীতল দেহ ছুঁয়ে আমরা শপথ নিয়েছিলাম, তাঁর শুরু করা সংগ্রাম আমরা এগিয়ে নিয়ে যাব।’ তিনি বলেন, সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা নতুন নয়। রাষ্ট্রের দ্বৈত চরিত্রের কারণে নির্যাতনের ঘটনাগুলো বারবার ঘটছে। এ ঘটনাগুলোর পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে এবং একটি সহিংসতামুক্ত রাষ্ট্র গঠন করতে কবি সুফিয়া কামালের আদর্শকে নিয়ে সামনের দিকে অগ্রসর হতে হবে।

৬৯টি নারী, মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংগঠনের প্ল্যাটফর্ম-সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি আয়োজিত এ সভায় কবি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন কবিকন্যা সাইদা কামাল এবং কবির জামাতা সুপ্রিয় ভট্টাচার্য।

সভায় আরও বক্তব্য দেন প্রিপ ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক এ্যারোমা দত্ত, উইমেন ফর উইমেনের সভাপতি ও দীপ্ত ফাউন্ডেশন ফর জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক জাকিয়া কে হাসান, স্টেপস টুওয়ার্ডস ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক রঞ্জন কর্মকার, নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি নাসিমুন আরা হক মিনু, ওয়াই ডব্লিউসিএ অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হেলেন মনীষা সরকার, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ উপপরিচালক রওশন জাহান পারভিন এবং হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সভাপতি চঞ্চলা চাকমা প্রমুখ।