17-Mon-Dec-2018 07:39am

Position  1
notNot Done

ব্লু-হাউস

Zakir Hossain

2018-02-3 20:08:16

দ্য পলিটিক্স ডেস্ক:  ব্লু-হাউস হলো গণপ্রজাতন্ত্রী দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন ও প্রধান কার্যালয়। দক্ষিণ কোরিয়ার জনগণের কাছে এ বাসভবনটির নাম চিওয়াংওয়াজ। সে দেশের স্বনামধন্য রাজা সুকজং ১০৯৫ সালে ভবনটি নির্মাণ করেন। ১৩৯২ খ্রিস্টাব্দে জোছিয়ান ডাইনেসটি নামক একজন বর্ণাঢ্য ব্যক্তি ভবনটি সংস্কার করেন। শুরুর দিকে এর নাম ছিল- জিওয়াংবগ প্রাসাদ। ১৩৯৫ সালে এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় কিংটাজিও প্রাসাদ। ১৩৯৮ সালে প্রাসাদটি সিভিল সার্ভিস ও সৈন্যদের বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার ১৯১০ সালে ভবনটির সামনে বিশাল আকারের সবুজ মাঠ, জাপান-কোরিয়া যৌথ মিলনায়তন নির্মাণ করেন। ১৯৩৯ সালে দক্ষিণ কোরীয় সরকার ভবনটিকে চিওয়াংওয়াজ নামে রূপান্তর করে সরকারি বাসভবন ও কার্যালয় হিসেবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেন। তিনতলাবিশিষ্ট মূল ভবনটি ছাড়াও এর আশপাশে রয়েছে একই রং ও ধরনের চারটি ভবন। প্রধান ভবনটিকে ব্লু-হাউস বলা হলেও আসলে এর রং নীল নয়।
তবে কেন এটিকে ব্লু-হাউস বলে? এর কারণ হিসেবে বলা হয়, দিনের বেলা সূর্যের আলো ভবনটির উপরে পড়লে ভবনটি নীল রূপ ধারণ করে এবং তাই একে ব্লু-হাউস বলা হয়। দক্ষিণ কোরীয় সরকারের যাবতীয় কার্যাবলী এই ভবনেই সম্পন্ন হয়। এদেশের অর্থনীতি ও রাজনীতি শতবর্ষ ধরে এই ভবনটিতেই সু-সম্পন্ন হচ্ছে।
ব্লু-হাউসকে রক্ষণাবেক্ষণ করার জন্য রয়েছে প্রায় ৫০ জন পরিচ্ছন্নকর্মী। প্রধান ফটকে রয়েছে ৫ জন নিরাপত্তাকর্মী। দূর থেকে ভবনটি দেখতে আকর্ষণীয়, মনোরম ও অত্যন্ত পরিপাটি মনে হয়। অতি চমৎকার এই ভবনটিকে কেন্দ্র করে অন্য যে তিনটি ভবন নির্মাণ করা হয়েছে, সেখানে পর্যায়ক্রমে সরকারের উচ্চ-পর্যায়ের মন্ত্রী ও সচিবরা বসবাস করেন।
ব্লু-হাউস দেখতে যতটা সুন্দর তার চেয়ে অধিক সুন্দর এর পারিপাশ্বর্কিতা। সুনসান নীরবতা সবসময় বিরাজ করে-ব্লু-হাউসে। প্রায় ৩০০ একর জায়গাজুড়ে ব্লু-হাউস ও এর সীমানা নির্ধারিত। দক্ষিণ কোরিয়ার সাধারণ নাগরিক সপ্তাহে একবার ব্লু-হাউস ও এর আশপাশ দেখার সুযোগ পায়। তবে বিদেশি নাগরিক ও অতিথিদের জন্য রয়েছে বিশেষ সুযোগ-সুবিধা।
দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউল থেকে ব্লু-হাউসের দূরত্ব ৫ কি.মি.। মজার ব্যাপার হলো, পীত সাগর নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া- উত্তর কোরিয়ার মধ্যে যে যুদ্ধ হয়েছিল তার ঘোষণা এসেছিল এই ব্লু-হাউস থেকেই। ব্লু-হাউসকে আরও মাধুর্যপূর্ণ করেছে এর পেছনের সুউচ্চ পর্বত। যে পর্বত থেকে ব্লু-হাউস দেখতে অত্যন্ত চমৎকার। যাই হোক, নানা কারণেই ব্লু-হাউস দক্ষিণ কোরীয় সরকার ও জনগণের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।