19-Wed-Dec-2018 02:31pm

Position  1
notNot Done

সাহারা খাতুন

Zakir Hossain

2018-02-8 09:14:09

দ্য পলিটিক্স ডেস্ক: এডভোকেট সাহারা খাতুন বাংলাদেশের প্রথম নারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী । ২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি  ঢাকা-১৮ হতে নির্বাচিত হন এবং  সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মনোনীত হন। ২০১২ সালে মন্ত্রণালয়ের রদবদল হলে তিনি বাংলাদেশ সরকারের  ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহন করেন।
সাহারা খাতুনের জন্ম  ১৯৪৩ সনের ১ মার্চ ঢাকার কুর্মিটোলা গ্রামে।  বর্তমানে তিনি ফার্মগেটের ৩৪,এয়ারপোর্ট রোড, তেজগাঁও-এ বসবাস করেন।  পিতার নাম মরহুম ডাঃ আবদুল আজিজ মাস্টার ও মাতার নাম মরহুমা তুরজান নেছা । পিতা ছিলেন একজন হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার এবং  তাঁর বাড়িতেই নিজস্ব ডাক্তারখানা  ছিল। পিতা ছিলেন একজন শিক্ষানুরাগী এবং রাজনীতির ক্ষেত্রে একজন বিচক্ষণ ব্যক্তি।  কুর্মিটোলায় বাড়িটি এবং জায়গা জমি সহ  ক্যান্টনমেন্টের জন্য অধিগ্রহণ করে  নেওয়া হলে   পিতা পাশেই  মানিকদি গ্রামে বাড়ি করেন। সেখানে পিতা বাড়িতেই নিজের সন্তান এবং  গ্রামের ছেলে মেয়েদের  জন্য একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। তখন তিনি ও তাঁর বোন ওহিয়া খাতুন সেই স্কুলে পড়তেন। পিতা সেই স্কুলের জন্য  দুইটি শ্রেণি কক্ষ  প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁরা দুই বোন ২য় শ্রেণী পর্যন্ত সেখানে পড়েন।  গ্রামের ছেলে মেয়েদের পড়াশুনায় আগ্রহ না থাকায় স্কুলটি কিছুদিন চলার পর বন্ধ হয়ে যায়। কুর্মিটোলা গ্রামের  পূর্বদিকের  যেই অংশ তখনো অধিগ্রহণ হয়নি সেখানে তাঁর পিতা  গ্রামের অন্যান্য মাতব্বরদের নিয়ে নিজে  প্রতিষ্ঠাতা  সেক্রেটারী হয়ে  সেখানে কুর্মিটোলা  হাইস্কুল স্থাপন করেন। তাঁর বাবা সেই অংশে নিজেদের বসবাসের জন্য একটি বাড়িও সেখানে তৈরী করেন। । ঐ এলাকাটি অধিগ্রহণ  হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সেই বাড়িতেই বসবাস করতেন।  কুর্মিটোলা হাইস্কুলে তিনি ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত পড়েন। তারপর তাঁকে পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডে  অবস্থিত মুসলিম গার্লস হাইস্কুলে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্ত্তি করা হয়। সেখানে ৯ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পর তাঁকে সিদ্ধেশ^রী গার্লস হাইস্কুলে ১০ম শ্রেণিতে ভর্ত্তি করা হয়। সেখানে ১৯৬০ সনে ইস্ট-পাকিস্তান বোর্ডের অধীনে ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করেন। ইতিমধ্যে কুর্মিটোলার অবশিষ্ট যেই জায়গায় বাড়ি ও স্কুল করা হয় তাও অধিগ্রহণ হয়ে যায়। তাঁর পর তিনি সিটি নাইট কলেজে ইন্টার্মিডিয়েটে ভর্ত্তি হন এবং  সেখান থেকে   ইন্টার্মিডিয়েট পাশ করেন। তারপর  জগন্নাথ কলেজে বি.এ-তে ভর্ত্তি হন। বি.এ(ফাইনাল) পরীক্ষার সময় অসুস্থ্য থাকার কারণে এক বিষয় পরীক্ষা দিতে পারেননি। পরে চাচা মরহুম আবুল হাশেমের  সাথে পশ্চিম পাকিস্তানের করাচি চলে যান। সেখানে করাচি বিশ^বিদ্যালয়ের অধীনে ইংরেজী মাধ্যমে ২য় শ্রেণিতে বি.এ(ডিগ্রি)অর্জন করেন। তিনি ১৯৬৭ সনে পরীক্ষা দিয়ে ঢাকা চলে আসেন এবং পুরোদমে রাজনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েন। পরে পুনরায় করাচি গিয়ে রেজাল্ট নিয়ে এসে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্ত্তি হন। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে আইন ছাত্রদের  মধ্যে একটি নির্বাচনে তিনি ছাত্রলীগের প্রার্থী  হিসেবে জয়লাভ করেন। সেটি ছিল জীবনের প্রথম নির্বাচন।  রাজনৈতিক কর্মকান্ডে এত বেশী জড়িয়ে পড়েন যে আর ল’ পরীক্ষা সময় মতো  দেওয়া সম্ভব হয়নি। ১৯৭৫ সনের  ৩ নভেম্বর জেলখানায় চার জাতীয় নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজ উদ্দিন আহমেদ, ক্যাপ্টেন মুহাম্মদ মনসুর আলী ও এ.এইচ.এম.কামরুজ্জামানকে   হত্য করা হয় এবং  ৪ নভেম্বর তাঁরা ঢাকা  বিশ্ববিদ্যালয় থেকে  ৩২ নং ধানমন্ডি বঙ্গবন্ধুর বাড়ি পর্যন্ত মিছিল করেছিলেন।   ৫ নভেম্বর  ৪ নেতার  লাশ পাওয়া গিয়েছিল। তাঁর ল’ পরীক্ষার ১টি বিষয় ৫ নভেম্বর ছিল, তিনি তখন  ভাবলেন পরীক্ষা পরেও দেওয়া যাবে কিন্তÍ জাতীয় নেতাদের শেষ বিদায় জানানোর সুযোগ আর পাওয়া যাবে না। সে কারণে  সে বৎসর আর পরীক্ষা দেওয়া হয়নি। এর পরের বছর ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে ল’(অনার্স) কোর্স শুরু হয়ে যায়।  তখন শিক্ষকদের পরামর্শে  বিজয়নগরে সেন্ট্রাল ল’ কলেজে ভর্ত্তি হন। আইনপেশায় আসার অদম্য ইচ্ছায় সেন্ট্রাল ল’ কলেজ থেকে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের অধীনে  ২য় শ্রেণিতে এলএল.বি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি বাংলাদেশ বার কাউন্সিল থেকে   আইনপেশা পরিচালনার সনদ প্রাপ্ত হয়ে   ঐতিহ্যবাহী ঢাকা আ্ইনজীবী সমিতির সদস্যপদ গ্রহণ করেন এবং  আইনপেশা শুরু করেন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি এডভোকেট মোঃ জিল্লুর রহমানের জুনিয়র হিসেবে।  বাংলাদেশ সুপ্রীমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আইনপেশা পরিচালনার  সনদ পান এবং  বাংলাদেশ সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সদস্য হন। তিনি পরবর্তীতে আইনজীবীদের  নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হন এবং বার কাউন্সিলের ফিনান্স কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
অবশ্য তাঁর রাজনীতির হাতেখড়ি তাঁর বাবার কাছ থেকেই । বাবা পল্টন ময়দানে বড় বড় জনসভায় তাঁকে অনেক সময় নিয়ে যেতেন। ১৯৬৬ সনে তিনি  ছয়দফার আন্দোলনে অংশ গ্রহণ করেন, বাড়ি বাড়ি গিয়ে ৬ দফার বই বিলি করেছেন তিনি। ১৯৬৯ সনে  আওয়ামী লীগের মহিলা শাখা যখন গঠিত হলো তাতে তিনি সক্রিয় অংশ গ্রহণ শুরু করেন এবং সারা ঢাকা শহরে মহিলাদেরকে আই.ভি. রহমানের নেতৃত্বে সংগঠিত করতে শুরু করেন।  বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে জাতীয় নেতা মরহুম  তাজউদ্দিন আহম্মেদ  আওয়ামী লীগের মহিলা শাখা  গঠন করে দিয়েছিলেন। তখন থেকেই  মিটিং মিছিল সবকিছুতেই অংশ গ্রহণ করেছেন। ২ মার্চ ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের দিনও  তিনি সরাসরি অংশ গ্রহণ করেছিলেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা তখনকার ছাত্রলীগ নেত্রীর সাথে  সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী  তাঁেক পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন।
১৯৭১ সনে ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের দিন তিনি  আওয়ামী লীগের মহিলা শাখার অনেক  মহিলা  নেতাকর্মীদেরকে নিয়ে সোহরাওয়ার্দ্দী  উদ্যানের জনসভায় যোগ দিয়েছিলেন । তিনি সহ মহিলা কর্মীরা সে দিন মঞ্চের সামনে খুব কাছাকাছি বসেছিলেন । সে দিন সবাই মন্ত্রমুগ্ধের  মত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানে ভাষণ শুনেছিলেন । বঙ্গবন্ধু “জয় বাংলা” বলে বক্তব্য শেষ করেন। তা এখনো কানে বাজে। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ শুনে উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি মেয়েদেরকে মুক্তিযুদ্ধের  জন্য সংগঠিত করার কাজে আত্মনিয়োগ করেন এবং তিনি নিজেও ট্রেনিং গ্রহণ করেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী তৎসময়ে ইন্দিরা রোডের মরিচা হাউজের বাসায় মেয়েদেরকে রাইফেল চালানোর ট্রেনিং দেওয়া হয়। মরহুমা টি.এন রশিদ তখন তাঁদেরকে  রাইফেল ট্রেনিং শিখাতেন। কিছুদিন ট্রেনিং প্রাপ্ত হয়ে তাঁরা ২৩ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডি ৩২ নং বাড়িতে কুচকাওয়াজ করে যান এবং সেখানে গিয়ে বঙ্গবন্ধুকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
২৫ মার্চ বিকালে শেরেবাংলা নগরে ঐ এলাকার নেত্রী হাজেরা খান এবং গোলে আরা বেগম সহ তাঁদের নেতৃত্বে এক মহিলা সমাবেশ ডাকা হয়। সেই সমাবেশে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মোঃ জিল্লুর রহমানের স্ত্রী মহিলানেত্রী মরহুমা আই.ভি রহমান ও তিনি বক্তব্য রাখেন। তিনি মহিলাদের উদ্দেশ্যে সে দিন বলেন যতটুকু তাঁর স্মরণ পড়ে তা হলো বঙ্গবন্ধু যেই উদ্দেশ্যে “ আমাদের মহিলা সংগঠন গড়ে তুলেছেন, মহিলারা  জনগোষ্ঠীর অর্ধেক , আমরা মহিলা, আমাদের হাতে তো বন্ধুক নেই, রাইফেল নেই, কাজেই  আমরা অন্ততঃ মরার আগে পাকের ঘরের দা-বটি দিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করবো”। মিটিং শেষে মিছিল নিয়ে সবাই বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডির  ৩২ নম্বরের  বাসভবনে যান। সেখানে তখন উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নেতা মরহুম সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও মরহুম তাজউদ্দিন আহমেদ সহ অনেকে। সন্ধ্যার পরে তাঁরা যে যার ঘরে চলে যান। তিনি ফার্মগেটের ৩৪,এয়ারপোর্ট রোডের বাড়িতে চলে আসেন। আনুমানিক  রাত বারোটার দিকে পাকহানাদাররা ইতিহাসের জঘন্যতম গণহত্যা শুরু করে। তখন ছাত্র-জনতা ফার্মগেটে একটি বিরাট গাছ কেটে ব্যারিকেড দেন। পাকহানাদাররা তখন সেখানে আটকে পড়ে। তিনি  বাড়ির দোতলা থেকে এই ঘটনা প্রত্যক্ষ করছিলেন। তিনি  উত্তর দিকে দেখতে পান দাউ দাউ করে আগুন জ¦লছে, মুহুর্মূহু গুলির আওয়াজ শুনতে পান। তাঁদের দোতলার ঘরেও  ২টি গুলি করেছিল পাকহানাদাররা। ২৫ মার্চ রাত ১২ টার পর অর্থাৎ ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান  বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। স্বাধীনতার ঘোষণা ওযারলেসের মাধ্যমে প্রচার করা হয়। স্বাধীনতা ঘোষণার পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে পাক হানাদার বাহিনী গ্রেফতার করে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যায়।  ক্রমে পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকলে পিতা তাঁদেরকে ৩০ মার্চ বোনের শ^শুর বাড়ি টঙ্গী হারবাইদ গ্রামে পাঠিয়ে দেন। ভগ্নিপতি ছিলেন মরহুম জমির উদ্দিন আহম্মেদ। বোন পূর্বেই মারা যান। তাঁর মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার  অদম্য ইচ্ছা থাকলেও সঙ্গীর অভাবে কারো সাথে যোগাযোগ করতে না পারায় মুক্তিযুদ্ধে যাওয়া হয়নি। যুদ্ধের পুরোটা সময় ভগ্নিপতির বাড়িতেই থাকতেন। তবে মাঝে মধ্যে বাড়িতে আসতেন কোন মুক্তিযোদ্ধা  আসে কিনা সে আশায়। প্রথম যেদিন বাড়িতে আসেন সেদিন বোরখা পড়ে এসেছিলেন। একজন মুক্তিযোদ্ধা নেহাল ওনার বাসায় আসতো । এই মুক্তিযোদ্ধাকে ঔষধ,গরম কাপড় ইত্যাদি যোগাড় করে দিতেন। যুদ্ধের শেষের দিকে অর্থ্যাৎ ডিসেম্বর মাসের প্রথম দিকে  তিনি বাসায় চলে আসেন। ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সনে পাকহানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে বিজয় লাভ করা হয়। পাকহানাদাররা সারেন্ডার করতে বাধ্য হয়। তখন তাঁর পিতা মরহুম আবদুল আজিজ মাষ্টার নিজের বন্দুকটি বের করে দেন  তাঁকে গুলি ফুটিয়ে বিজয়ী মুক্তিযোদ্ধাদেরকে অভিনন্দন জানাবার জন্য।
বঙ্গবন্ধুর সাথে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী পাকিস্তান আমলেই  তাঁকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন । তারপর থেকে  জাতির জনক বঙ্গবন্ধু তাঁকে ব্যক্তিগত ভাবে চিনতেন, বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার পর  অনেক লোকের মধ্যেও জিজ্ঞাসা করতেন সাহারা কেমন আছ? কেমন কাজ চলছে ?  ১৯৭৩ সনে জাতির জনক  পূর্ব-জার্মানে এক যুব সম্মেলনে ৭০/৭৫ জনের  এক প্রতিনিধির সাথে তাঁকেও পাঠান। সেই প্রতিনিধি দলে ছিলেন ফণিভূষণ মজুমদার, শেখ ফজলুল হক মণি, শেখ কামাল, সুলতানা কামাল সহ অনেকে । সেই যুব সম্মেলনে যাওয়ার আগে বঙ্গবন্ধু প্রতিনিধি দলের সকলকে পুরাতন গণভবনে ডেকে পাঠান। সে দিন বঙ্গবন্ধু তাঁদের  কিছু নির্দেশনা দিয়ে বলেছিলেন তোমরা প্রত্যেকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছ , তোমরা শৃংখলা বজায় রাখবে, ভাল আচার-আচরণ করবে। যাতে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল হয়। এটিই ছিল তাঁর প্রথম বিদেশ সফর।
১৯৭৪ সনে মহিলা সমিতির প্রতিনিধি হিসেবে নরওয়ে গিয়েছিলেন। একটি সেমিনারে যোগদান করেছিলেন। সেখান থেকে ফিরার পথে যুক্তরাজ্য  হয়ে ফিরেন।
১৯৭৫ সনের ১৫ আগস্ট জাতির জনকের স্বপরিবারে  ইতিহাসের নৃশংসতম হত্যাকান্ডের বিষয়  সকাল ৭ টার দিকে শুনতে পান। শুনে সে দিন চিৎকার দিয়ে কেঁদে ওঠেছিলেন।  তখন তিনি দৌড় দিয়ে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর ইন্দিরা রোডের মরিচা হাউজে গিয়েছিলেন নির্দেশনার জন্য। তখন সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী  ধৈর্য্য ধরে অপেক্ষা করতে বলেন। কি করতে হবে পরে জানাবেন বললেন,  কারণ তিনিও সে দিন হতবিহবল হয়ে পড়েছিলেন,কি করবেন বুঝে ওঠতে পারছিলেন না। সে দিন ঘাতকদের নির্মম হত্যাযজ্ঞে যারা শহীদ হয়েছিলেন তাঁরা হলেন জাতির জনক  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তাঁর স্ত্রী  বেগম  ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বড় পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল, ছোট পুত্র শেখ রাসেল, শেখ কামালের স্ত্রী সুলতানা কামাল, শেখ জামালের স্ত্রী রোজী জামাল, বঙ্গবন্ধুর ভাই শেখ নাছের,  শেখ ফজলুল হক মণি, মণির গর্ভবতী  স্ত্রী আরজু মণি, মন্ত্রী আবদুর রব সেরনিয়াবাত, আবদুর রব সেরনিয়াবাতের কন্যা বেবী, পুত্র আরিফ সেরনিয়াবাত, নাতী শুকান্ত বাবু, বড় ভাইয়ের পুত্র সজিব সেরনিয়াবাত এবং আত্মীয় বেনতু খান। বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে সে দিন দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে শহীদ হোন এস.বি অফিসার ছিদ্দিকুর রহমান, কর্ণেল জামিল, সৈনিক সৈয়দ মাহবুবুল হক।
তিনি  ১৯৮১ সন থেকে  আইনপেশা শুরু করেন। তিনি  আইনজীবীদেরকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উদ্বুদ্ধ করে সংগঠিত করা শুরু করেন।  জননেত্রী মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৮১ সনে দেশে ফিরে  আসেন। তখন তিনি দেখেন যে আইনজীবীদের  মধ্যে সকল রাজনৈতিক দলের অঙ্গ সংগঠন গড়ে তুলেছেন। তখন তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার  সাথে পরামর্শ করে তিনি সহ কয়েকজন আইনজীবী নেতা মিলে তাঁকে আহব্বায়ক করে বাংলাদেশ আওযামী আইনজীবী পরিষদ গঠন করেন। তখন তিনি সহ নেতৃবৃন্দ মিলে সারা বাংলাদেশ সফর করে বাংলাদেশ আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের প্রত্যেক জেলা শাখা গঠন করেন।  আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউটে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে প্রধান অতিথি করে বাংলাদেশ আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের কেন্দ্রীয় সম্মেলন করা হয়। সে সম্মেলনে তাঁকে সভাপতি ও এডভোকেট মোঃ আবদুল্লাহ আবুকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। এর মাধ্যমে সারা বাংলাদেশে আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের  বিস্তার ঘটে।
তিনি ১৯৯১ সনের সংসদ নির্বাচনে তৎকালীন ঢাকা-৫ আসন থেকে মনোনয়ন পেয়ে বি.এন.পি নেত্রী খালেদা জিয়ার সাথে প্রতিদ্বন্তিতা করেছিলেন কিন্তু ভোট কারচুপি করে তাঁকে হারিয়ে দেওয়া হয়। পরে  একই আসনে খালেদা জিয়া সিট ছেড়ে দিলে শূন্য আসনের উপ-নির্বাচনেও তাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। তখনো বি.এন.পি ক্ষমতায় থেকে ভোট কারচুপি করে তাঁকে হারিয়ে দেওয়া হয়। ১৯৯৬ ও ২০০১ সনে তাঁকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। এর পর তিনি ২০০৮ সনের ২৯ ডিসেম্বরের  সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৮ আসন থেকে মনোনয়ন পেয়ে বিপুল ভোটে  জয় লাভ করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগ তথা ১৪ দলীয় জোট ক্ষমতায় আসে। তাঁেক  ৬ জানুয়ারী ২০০৯ সনে চ্যালেঞ্জিং মন্ত্রণালয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। বাংলাদেশের  ইতিহাসে যুক্ত হলো প্রথম মহিলা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সফলতার সাথে তিনি নির্ভিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে  পৌনে চার বছরের মাথায়  তাঁকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি পুনরায় ঢাকা-১৮ আসন থেকে ২০১৪ সনের ৫ জানুয়ারীতে পুনরায়  সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
তিনি ১৯৭৩ সনে পূর্ব-জার্মানী ও ১৯৭৪ সনে  নরওয়ে ছাড়া বিদেশে সফর করেছেন চিকিৎসার জন্য এবং একটি কনফারেন্সে সিঙ্গাপুর ও তিনি যখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তখন ২৫ বেইলী রোডের সরকারী বাসায় বাথরুমে পড়ে ডান পায়ের হিপবোন ভেঙ্গে যায় । মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তখন তাঁকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর পাঠান এবং সেখান থেকে চিকিৎসা করিয়ে আনেন। ১৯৯৬ -২০০১ সনে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাঁকে ওমরাহ হজে¦র জন্য সৌদি  আরব নিয়ে যান। তিনি আমেরিকায় সফর করেন একবার জাতিসংঘের একটি কনফারেন্সে মাননীয়  প্রধানমন্ত্রীর সাথে আরেকবার মহিলা সমিতির কনফারেন্সে,  যুক্তরাজ্য, ভারতের দিল্লী,কলিকাতা, আজমির শরিফ, আগ্রা; ভূটান, মালয়েশিয়া, ডিজিটাল পাসপোর্ট উদ্বোধন করতে অস্ট্রেলিয়া ও মালয়েশিয়া, প্রধানমন্ত্রীর সাথে  ফ্রান্স, বিরোধী দলে থাকাকালীন আই.ভি রহমান সহ মহিলা সমিতির কনফারেন্সে কানাডা ও চায়না সফর করেন। একটি কনফারেন্সে শ্রীলংকা সফর করেছেন। তখন  মিসেস কুমারাতুঙ্গা শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট ছিলেন।
তিনি বাংলাদেশের সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার, সুন্দরবন, সিলেট সহ মহিলা আওয়ামী লীগের সংগঠন করতে, আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সংগঠন করতে ও মন্ত্রী থাকাকালীন দেশের  বিভিন্ন জেলা সফর করেছেন। তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিস্থলে সর্ব প্রথম যান  রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময়। তখন আওয়ামী লীগের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ছিলেন মরহুম এম.এ.জি ওসমানী। তখন বঙ্গবন্ধুর মাজারে বাঁশের বেড়া ছিল।  পরে জননেত্রী শেখ হাসিনার সাথে বঙ্গবন্ধুর মাজারে যান। তার পর থেকে প্রায় প্রতি বছর ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে হৃদয়ের টানে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে যেয়ে আসছেন।
২০০১ সনে বি.এন.পি -জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসলে  আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নামে অনেক  মিথ্যা হয়রানীমূলক মামলা দিতে থাকে। তিনি তখন আইনজীবীদের নিয়ে  বিনা পারিশ্রমিকে অধিকাংশ নেতাকর্মীর  মামলা পরিচালনা করেন। আহত কর্মীদের  হাসপাতালে এবং বাসায় দেখতে যেতেন। বিশেষ করে মহিলা কর্মীদেরকে থানায় গ্রেফতার করে নিয়ে গেলে তাদেরকে যাতে নির্যাতন করা না হয় সেই জন্য আইনজীবীদের নিয়ে থানায় যেতেন। পরিবারকে সান্তÍনা দেওয়ার জন্য বাসায় ছুটে যেতেন। নেতা-কর্মীদের  মামলা করার জন্য তিনি, এডভোকেট সৈয়দ রেজাউর রহমান  ও এডভোকেট আবদুল্লাহ আবু সহ ময়মনসিংহ ও নড়াইলেও  গিয়েছিলেন।
২০০৭ সনের ওয়ান-ইলেভেনের সময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলাগুলি ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ, এডভোকেট সৈয়দ রেজাউর রহমান,এডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস, এডভোকেট মোঃ আবদুল্লাহ আবু, এডভোকেট মোঃ কামরুল ইসলাম.এডভোকেট আবদুর রহমান হাওলাদার,এডভোকেট মোঃ মোখলেছুর রহমান বাদল সহ অনেককে  নিয়ে করেছেন। অন্যান্য নেতাকর্মীদের মামলাগুলিও দেখতেন। । তখন অনেকে জননেত্রী শেখ হাসিনার মামলাসহ নেতা-কর্মীদের মামলায় যেতে  ভয় পেতেন। সকল ভয়-ভীতিকে অতিক্রম করে তিনি সকল আদালতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন এবং সকল কার্যক্রমে তিনি অংশ গ্রহণ করেছেন।  তিনি  ঝুকিপূর্ণ জেনেও  জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং  নেতাকর্মীদের  জন্য  সাংবাদিকদের কাছে স্টেটমেন্ট দিয়েছেন।
তিনি ছোটবেলায় সাইকেল চালাতে খুব  পছন্দ করতেন। গয়না পড়া পছন্দ করেন না। ছোট কালে মা দুই হাতে রূপার  চুড়ি পরিয়ে দিয়েছিলেন। অলংকার পড়া পছন্দ করতেন না বিধায় চুড়িগুলি খুলতে না পেরে ভেঙ্গে পানিতে ফেলে দিয়েছিলেন। তিনি একজন  স্পোর্টসম্যান ছিলেন। মেয়েদের জন্য নির্ধারিত সব ধরণের খেলায় তিনি অংশ গ্রহণ করতেন। তিনি অনেক পুরস্কারও  পেয়েছেন। তিনি ছোট বেলায় ছেলেদের সাথে ফুটবল,ডাংগুলি খেলতে ভালবাসতেন । ১৯৬০ সনের পর বলতে গেলে সকল খেলাধূলাই তাঁর জন্য নিষিদ্ধ হয় বাবা-মার পক্ষ থেকে, ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আর খেলাধূলা করতে পারেননি। তিনি সাঁতার কাটতেও পারতেন, তিনি ড্রাইভিং শিখেছিলেন, যখন ড্রাইভার থাকতো না, তখন  তিনি অনেক সময় নিজে গাড়ী চালিয়ে কোর্টে যেতেন ।
তিনি তাঁর জীবনকে আওয়ামী লীগের জন্য, দেশের মানুষের কল্যাণে উৎসর্গ করেছেন। তিনি বিয়ে- সাদী করেননি। যত দিন বেঁচে থাকবেন তত দিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকবেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নে তাঁরই সুযোগ্য কন্যা  মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আস্তা রেখে কাজ করে যাবেন।
 তিনি প্রথমে  নগর আওয়ামী লীগের মহিলা সম্পাদিকা নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে মহিলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক, পরবর্তীতে সাধারণ সম্পাদিকা এবং একই সাথে নগর আওযামী লীগের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন।  এরপর তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সহ-আইন সম্পাদিকা,পরে তিনি আইন সম্পাদিকা নির্বাচিত হন, তখন তিনি নগর আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি পদ এবং মহিলা আওযামী লীগের সাধারণ সম্পদকের পদ আর গ্রহণ করেননি। অতঃপর তিনি  পরবর্তী কাউন্সিলে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে  প্রেসিডিয়াম সদস্য নির্বাচিত হন । এখনো তিনি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে বিদ্যমান আছেন।
স্বাধীনতার পর থেকেই  তিনি মহিলা সমিতির সদস্য মনোনিত হন। তখন আই,ভি রহমান মহিলা সমিতির সাধারণ সম্পাদিকা ও ডঃ নীলিমা ইব্রাহিম সভানেত্রী  ছিলেন। তিনি পরিবার পরিকল্পনা সমিতির আজীবন সদস্য, ঢাকা আইনজীবী সমিতির আজীবন সদস্য, গাজীপুর আইনজীবী সমিতির আজীবন সদস্য, ঢাকা ট্যাক্সেস বার এসোসিয়শনের আজীবন সদস্য, বাংলাদেশ সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সদস্য। তিনি আন্তর্র্জাতিক সংগঠন ইন্টারন্যশানাল এলাইন্স অব ওমেন্সের  ডাইরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি যুদ্ধাপরাধীদের  বিচার চেয়ে অনেক আন্দোলন করেছেন, শহীদ জননী জাহানারা ইমাম ছিলেন  তাঁর শিক্ষক। ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটিতে শহীদ জননীর সাথে কাজ করেছেন।
 প্রথম মহিলা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি দেখেন যে, পুলিশ বাহিনীতে ৬০% রেশন দেওয়া হয়, তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলে ১০০% রেশনের ব্যবস্থা করেন। পুলিশ বাহিনীর ঝুঁকি ভাতা বাড়িয়েছেন, ঢাকা সেন্ট্রাল জেলে যেইখানে জাতির জনককে রাখা হতো সেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি নিয়ে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি যাদুঘর  ও চার নেতা হত্যাকান্ডের ঘটনাস্থলেও  স্মৃতি যাদুঘর করা হয়, স্মৃতি যাদুঘর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী  জননেত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করেছেন। তাঁর সময়ে  পুলিশ বাহিনীতে স্বাধীনতা পদক প্রবর্তন করা হয়  এবং  থানার ও.সি.দেরকে প্রথম শ্রেণির মর্যাদায় ও এস.আই-দেরকে ২য় শ্রেণির মর্যাদায়  উন্নীত করা হয়। আই.জি পদকে আপগ্রেড করা হয়।
২০০৪ সনের ২১ আগস্ট  বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউতে বাংলাদেশ আওযামী লীগের সন্ত্রাস বিরোধী সভা এবং মিছিলের কর্মসূচী ছিল । কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার উদ্দেশ্যে  ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব শূন্য করে নিশ্চিহ্ন করার  জন্য  গ্রেনেড হামলা করা হয় । সে  দিন তিনি মঞ্চে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১০ ফিট পিছনে ছিলেন। সে দিনের মর্মান্তিক দৃশ্য ইতিহাসের বর্বরোচিত হামলা ও লাশের সারি দেখে হতবিহবল হয়ে পড়েছিলেন । সে দিন  আওয়ামী লীগ নেত্রী আই.ভি রহমান সহ ২৪ জন নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয় । সে দিন তিনিও আহত হয়েছিলেন । মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সে দিন আল্লাহর রহমতে জীবনে রক্ষা পান কিন্তু গ্রেনেড বিস্ফোরণের বিকট শব্দে  কানের শ্রবণ শক্তি ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। হাওয়া ভবনের পরিকল্পনায় সে দিন এই হামলা হয়েছিল । সেই কারণে এত বড় ঘটনা হলেও তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে মামলা করার  বিষয়ে কোন  পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
 মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২য় মেয়াদে সরকার গঠনের  ৫০ দিনের মাথায় তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী  থাকাকালে  একটি হৃদয় বিধারক ঘটনা ঘটেছিল তৎকালীন বি.ডি. আর হত্যাকান্ড। জীবনের ঝুকি নিয়ে তিনি সে দিন বি.ডি. আর বিদ্রোহ দমনের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সহযোগিতায়  চেষ্টা করেছিলেন। ছুটে যান পিলথানা বি.ডি.আর ক্যাম্পে। কিন্তু তিনি সেখানে পৌঁছার আগেই  হৃদয় বিদারক ঘটনা ঘটে গিয়েছিল। পরের দিন ২/৩ শত বি.ডি.আর ফোর্স   তাঁর নির্দেশে হাসপাতালের ভিতরে  অবস্থান নেয় ।  তাদের অবস্থানের   পর  লাশগুলো উদ্ধার করা হয় ও গুলি,অস্্রশস্ত্র বিভিন্ন জায়গা থেকে উদ্ধার করা হয়।
 বিরোধী দলে থাকাকালীন এরশাদের সামরিক শাসনের সময় স্বৈরাচার বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শরিক হওয়ার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য ডঃ কামাল হোসেনের বাসায় ১৫ ফেব্রুয়ারী  জমায়েত হলে জননেত্রী শেখ হাসিনা, আবদুস সামাদ আযাদ,মোহাম্মদ হানিফ, মতিয়া চৌধুরী , সাহারা খাতুন  ও ডঃ কামাল হোসেন সহ ২৬ জন নেতৃবৃন্দকে  গ্রেফতার করা হয়। ১৫ দিন জেল খাটার পর প্রথমে জননেত্রী শেখ হাসিনা, মতিয়া চৌধুরী ও সাহারা খাতুনকে  গাড়ীতে করে যার যার বাসায় নিয়ে নামিয়ে দেয়া  হয়।
 তখনো এরশাদের  শাসন আমল চলছে, এই সময়  আরেকবার স্বাধীনতা দিবসে সাভার স্মৃতিসৌধ থেকে আই.ভি রহমান, জোহরা তাজউদ্দিন, সাজেদা চৌধুরী,মতিয়া চৌধুরী ও সাহারা খাতুনকে পুলিশ গ্রেফতার করে সাভার  থানায় নিয়ে যায়। তখন জননেত্রী শেখ হাসিনা গৃহবন্দী ছিলেন, তিনি সরকারের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন  এই মূহূর্তে আমার মহিলা নেত্রীদেরকে ছেড়ে না দিলে তিনি ঘর থেকে বের হয়ে পড়বেন এবং আন্দোলন শুরু  করবেন।। পরে সন্ধা ৭টায় তাঁদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
খালেদা জিয়ার শাসন আমলে একবার হরতালের সময় ফার্মগেট এলাকায় পুলিশ বাহিনীতে বি.এন.পি ক্যাডারদের দ্বারা তিনি ও বেগম মতিয়া চৌধুরী মারাত্বকভাবে আহত হন। মতিয়া চৌধুরীকে আল-রাজী হাসপাতালে ভর্ত্তি করা হয় এবং সাহারা খাতুনকে পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে ডান হাঁটু অপারেশন করা হয়। পঙ্গু হাসপাতালে কেবিন না থাকায় সেখান থেকে তাঁকে হলিফ্যামিলি হাসপাতালে নিয়ে ভর্ত্তি করা হয়।
 ওয়ান ইলেভেনের সময় স্মৃতিময় একটি ঘটনা হলো সংসদ ভবনে স্থাপিত বিশেষ আদালতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মামলার যে দিন সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয় সে দিন তিনি প্রয়াত রাষ্ট্রপতি এডভোকেট মোঃ জিল্লুর রহমানকে বিশেষ আদালতে যেতে অনুরোধ করেন। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জানান ওনার  তো কোট-টাই গাউন নেই, তখন তিনি বললেন সব  ব্যবস্থা করবো,আপনি আসেন । সে দিন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও  প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মোঃ জিল্লুর রহমানকে আদালতে দেখে অবাক হয়ে গিয়েছিলেন । সেই ঘটনা আজও তাঁর স্মৃতিতে মনে পড়ে।
স্মৃতিময় আরেকটি দিন হলো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির জনকের হত্যাকান্ডের  দীর্ঘ সময় পর  ১৯৮১ সনে দেশে ফেরত এসে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে যে দিন যান, সে দিন নেত্রী সারাদিন আবেগ  প্রবণ হয়ে ছোটবেলার স্মৃতি বিজড়িত ৩২ নম্বরের বাড়িতে সারাদিন কাটান।  সে দিন নেত্রীর সাথে তিনিও সারাদিন ৩২ নম্বরের বাড়িতে ছিলেন। এরপর প্রায় ২ মাস প্রতিদিন সকালে তিনি ৩২ নম্বরে যেতেন, সারাদিন থেকে সন্ধ্যায় চলে আসতেন।
মনে পড়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ১৯৭৫ সনের  জন্ম দিনের কথা। সে দিন মহিলা সমিতির  উদ্যোগে  বঙ্গবন্ধুর জন্ম দিন পালনের জন্য ১টি বড় কেক নিয়ে গণভবনে গিয়ে কেক কাটার সময় বঙ্গবন্ধু তাঁর হাত থেকে কেক কাটার চাকু নিয়ে  নিজেই কেক কাটতে শুরু করেন এবং তাঁর  হাতে তুলেন দেন সকলকে দেওয়ার জন্য, সে দিনের স্মৃতি অম্লান হয়ে থাকবে ।  এ রকম হাজারো স্মৃতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে মিশে আছে। তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি আস্থাশীল এবং আজীবন থাকবেন বলে জানান। আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে তিনি বহুবার নির্যাতিত হয়েছেন,জেল খেটেছেন,তারপরও তিনি কখনো থেমে থাকেননি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ প্রতিষ্ঠায় কাজ করে গেছেন এবং তিনি আজীবন কাজ করে যাওয়ার দৃঢ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন আওয়ামী লীগের জন্যই তিনি তাঁর এই ক্ষুদ্র জীবনটি উৎসর্গ করে যাচ্ছেন।